প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রকাশিত খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি। বৃহস্পতিবার লেবাননের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি চ্যানেলে প্রচারিত তিন মিনিটের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। ভিডিওটির শিরোনামে ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা উচিত—এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। এতে দাবি করা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।
ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিয়মিত যাতায়াতের পথ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য ও দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার দাবিও করা হয়। তবে এই অর্থের ঘোষণা কে বা কোন পক্ষ দিয়েছে, সে বিষয়ে ভিডিওতে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, তারা ভিডিওটির বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের গোপন বা প্রত্যক্ষ হুমকি রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি ভিডিওটিতে উঠে আসা হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান বিষয়টি থেকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উত্তেজনা রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের পরিবারের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে এমন বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি দ্রুত আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
তবে ভিডিওটির দাবিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এ ধরনের ভিডিও সরাসরি হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ না হয়ে রাজনৈতিক বার্তা, ভয় সৃষ্টি কিংবা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টাও হতে পারে।
এর আগেও ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকিসূচক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। নতুন ভিডিওটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে প্রকাশিত ভিডিও এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া অস্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওতে করা নির্দিষ্ট দাবিগুলোকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।



