রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কানাডাকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে: ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

কানাডাকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে: ট্রাম্প

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কানাডাকে আর কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং দেশটিকে এবার ‘শিক্ষা দেওয়ার’ সময় এসেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডার সঙ্গে একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে কানাডা সেই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, কানাডার এমন কোনো পণ্য নেই, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি নির্ভরশীল। প্রয়োজন হলে অন্য দেশ থেকে সেসব পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য বিরোধের জেরে এরই মধ্যে দুই দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০০০ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমাণ পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

শুধু সাধারণ পণ্য নয়, কানাডার গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। এসব পণ্যের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঝারি ও ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ দুই দেশের সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারোও কানাডার ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেছেন। তার দাবি, কানাডা যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের সুবিধাজনক শর্তে চুক্তির সুযোগ দেশটি আর নাও পেতে পারে। বরং পরবর্তী সময়ে যে সমঝোতা হবে, সেটি কানাডার জন্য আগের প্রস্তাবের তুলনায় কম সুবিধাজনক হতে পারে।

নাভারো আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবটি কানাডার জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল। তাই সেটি প্রত্যাখ্যান করার কোনো অর্থনৈতিক কারণ তিনি দেখেন না বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে ওয়াশিংটনে কানাডার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক এবং কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য অব্যাহত থাকলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। দুই দেশের অর্থনীতি পরস্পরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সংঘাত হলে ব্যবসা, শিল্প ও ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ এখনো রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!