রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকটে ডলারের ব্যবহার কমানোর আহ্বান মোজতবা খামেনির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

অর্থনৈতিক সংকটে ডলারের ব্যবহার কমানোর আহ্বান মোজতবা খামেনির

ফাইল ছবি

ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দেশের নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে দেশের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো এবং বহির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই।

সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মোজতবা খামেনি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন, নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি বছর সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে সরকার সপ্তাহ পালন করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন। এ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় খামেনি দেশের বিভিন্ন সময়ের নিহত কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও ব্যবস্থাপকদেরও স্মরণ করেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে তিনি মূল্যস্ফীতিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বড় চাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন বাড়ানো, দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে কাজে লাগানো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন পথ অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি।

খামেনি বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য যতটা সম্ভব নিজেদের উৎপাদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। যেসব পণ্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব নয়, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আমদানি করা উচিত। তাঁর মতে, নিজস্ব উৎপাদন বাড়লে দেশের অর্থনীতি বহির্বিশ্বের চাপ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী হবে।

মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের প্রভাব ধীরে ধীরে কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরোধভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনির এই বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেললেও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, জনগণের সহযোগিতা, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়নের পথ তৈরি করা সম্ভব।

তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। খামেনির মতে, নতুন উদ্ভাবন দ্রুত কাজে লাগানো এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করার মানসিকতা অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করে বা জাতীয় ঐক্য দুর্বল করে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। যুদ্ধ, আলোচনা, সমঝোতা কিংবা কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি না করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে খামেনি বলেন, দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনায় সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং নৈতিক বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে মায়েদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমানো, ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার প্রসার, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার এবং জাতীয় ঐক্যকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। তাঁর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারই ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!