প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে জানা গেছে, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় সরাসরি অংশ নেবেন না। বিষয়টি তাঁর এক প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার হুমকির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে সরাসরি উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। টানা সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। প্রথমদিকে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষ শ্রদ্ধা ও দাফনের আয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে প্রতিপক্ষকে সংযত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।



