রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তেল চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪৩ জনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

তেল চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪৩ জনের

ছবিঃ সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার রিভার্স প্রদেশে পাইপলাইন থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য চুরির চেষ্টার সময় বিষাক্ত ধোঁয়ার কবলে পড়ে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যরাতে ওক্রিকা এলাকার ওকারি জেটিতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওক্রিকা ও আশপাশের এলাকার দুই শতাধিক তরুণ কাঠের নৌকায় করে ওই এলাকায় পৌঁছান। পরে তারা একটি পাইপলাইনের সঙ্গে অবৈধভাবে সংযুক্ত একটি স্থান থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। নৌকায় এসব পণ্য তোলার সময় হঠাৎ করে সেখানে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

ধোঁয়ার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সেখানে অবস্থানকারীদের অনেকেই দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজন ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই অনেকে নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে কয়েকজন পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর নদী ও আশপাশের এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের তৎপরতা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, নদীর পানিতে বেশ কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কীভাবে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ল এবং ঠিক কতজন ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে উচ্চচাপে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনের সময় তা অবৈধভাবে নৌকায় স্থানান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় পাইপলাইন থেকে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত বাষ্প বের হয়ে ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘন ধোঁয়ার কারণে সেখানে থাকা মানুষজন দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতার শিকার হন।

নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ নাইজার বদ্বীপ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে পাইপলাইন থেকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটে আসছে। দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং তেলসম্পদ থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে। তবে এ ধরনের তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অতীতেও বিভিন্ন সময় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

ওকারি জেটিতে সাম্প্রতিক এই ঘটনাতেও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরানোর সময় নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে। স্বজনেরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাইপলাইন এলাকায় এ ধরনের অবৈধ তৎপরতা বন্ধ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!