প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র করনের কাছে একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৮৭ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী। আগুন লাগার পর ফেরিটির একটি বড় অংশ পুড়ে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে সমুদ্রে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যায় উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে থাকা ফেরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফেরিটি ম্যানিলা থেকে করনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। আগুন লাগার পরপরই জাহাজে থাকা যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জনের তালিকা ছিল। এর মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। ফিলিপাইনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন কর্মী রয়েছেন। তবে তাদের অনেকেই এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। ফলে আগুন লাগার সময় ফেরিটির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, কোথায় কারা অবস্থান করছিলেন এবং কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
অগ্নিকাণ্ডের পর ফেরিটি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পানিতে পড়ে যাওয়া বা ফেরির ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক লক্ষ্য এখন নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা। সমুদ্রের পরিস্থিতি, ফেরিটির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা এবং আগুনের কারণে উদ্ধার তৎপরতায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তারপরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ফেরিটিতে আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে তারা কথা বলার মতো অবস্থায় না থাকায় তদন্তকারীদের জন্য আগুনের সূত্রপাত ও দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশ দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। করনসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক যাতায়াত করেন। ফলে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় নৌযান চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করা হবে।



