রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, শিক্ষার্থীসহ ২৯ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, শিক্ষার্থীসহ ২৯ জনের মৃত্যু

ছবিঃ সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আগুনে দুটি বিদ্যালয় এবং প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এর ভয়াবহতা আরও বেড়ে দুটি বিদ্যালয়েও আগুন পৌঁছে যায়। আগুন ও ঘন ধোঁয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন থেকে বাঁচতে বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে যায় এবং একে অপরের ওপর চাপা পড়ে। কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আগুনে উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাশের একটি বড় বসতিও আগুনে পুড়ে যায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর আগুনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আহতদের দ্রুত কাছাকাছি বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনের পর প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। ধোঁয়ার কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে আহত ২৯ জন বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজন কাদুতু সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরও কয়েকজন বুকাভু প্রাদেশিক সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের একজন জানান, আগুনের পর চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেরই শ্বাস নিতে গুরুতর সমস্যা হচ্ছিল। কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং হতাহতদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বুকাভু বর্তমানে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুনের খবর পাওয়ার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ গোষ্ঠী বুকাভুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শহরটিতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে গত রোববার একটি অগ্নিকাণ্ডে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

তবে আগের অগ্নিকাণ্ডগুলোর সঙ্গে বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ আগুনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমান অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!