রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও দেশে ফিরতে পারছেন না লিবিয়াপ্রবাসী আসাদুল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও দেশে ফিরতে পারছেন না লিবিয়াপ্রবাসী আসাদুল

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর মুক্তি পেলেও দেশে ফিরতে পারছেন না বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা আসাদুল বখতিয়ার। শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যয় এবং দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তিনি এখনও বিদেশের মাটিতে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার পরিবারের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসাদুল বখতিয়ার ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের আশায় লিবিয়ায় যান। সেখানে একটি দর্জির কাজে নিয়োজিত থেকে নিয়মিত উপার্জনের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা।

কয়েক মাস আগে ভোররাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছে নির্যাতনের দৃশ্য পাঠিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে কম টাকায় সমঝোতা হয়।

আসাদুলের স্ত্রী জানান, স্বামীকে জীবিত ফিরিয়ে আনার আশায় ধারদেনা, আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রায় দুই মাসের চেষ্টায় প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে অপহরণকারীদের কাছে পাঠানো হলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়।

মুক্তি পাওয়ার পর এক বাংলাদেশি প্রবাসীর সহায়তায় তিনি আশ্রয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা পান। তবে নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি এখনও কষ্টে দিন পার করছেন।

এদিকে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচও জোগাড় করতে পারছে না পরিবার। ফলে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বজনদের কাছে ফিরতে পারছেন না আসাদুল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে পড়ায় স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে পরিবারটি।

আসাদুলের স্বজনরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে একটি পরিবার নতুন করে বেঁচে থাকার আশা পাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!