প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে সরকারি অভিযান জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বহু প্রবাসীকে তাদের আবাসন থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের জন্য সরকার নির্ধারিত একটি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পরিদর্শনে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে কুয়েতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তারা মতবিনিময় করেন।
দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন কাউন্সিলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে শ্রমকল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারও উপস্থিত ছিলেন। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে যাদের বৈধ নথি নেই, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
এদিকে চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, প্রত্যেক প্রবাসীকে নিজের বসবাসের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই পরিচয়পত্র বা অন্য বৈধ নথি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি বা যাচাইয়ের সময় কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে না হয়।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা যেন দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি কুয়েত সরকারের আইন ও নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিয়ম মেনে চলাই বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



