রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রিসে পৌঁছালেন দুই শতাধিক অভিবাসী, বেশির ভাগই বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১১:২৯ এএম

গ্রিসে পৌঁছালেন দুই শতাধিক অভিবাসী, বেশির ভাগই বাংলাদেশি

সংগৃহীত

গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার একাধিক নৌযানে করে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী দ্বীপটিতে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কয়েকজন মিসরের নাগরিকও রয়েছেন।

জানা গেছে, লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা করা কয়েকটি নৌযানে করে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে এসব অভিবাসী ক্রিটে পৌঁছান। নতুন করে অভিবাসীদের আগমনে দ্বীপটির স্থানীয় প্রশাসন ও অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইয়েরাপেত্রা এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি নৌযান থেকে আরও ৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। আকাশপথে নজরদারির মাধ্যমে নৌযানটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী সেখানে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। পরে তাদের ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌযান থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। প্রথম নৌযানে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি ও ৩১ জন সুদানের নাগরিক ছিলেন। দ্বিতীয় নৌযানে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে নৌপথে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার, নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং থাকার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।

এদিকে অভিবাসীদের একটি নৌযান পরিচালনার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এর আগে ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অভিযান চালিয়ে ৫০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরকে নৌযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

লিবিয়ার উপকূল থেকে ক্রিট দ্বীপে নৌপথে অভিবাসীদের আগমন সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছানোর এই প্রবণতা অভিবাসীদের জীবন যেমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, তেমনি ক্রিটের উদ্ধার ও আশ্রয়ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!