রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি গ্রিসের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি গ্রিসের

সংগৃহীত

আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে যাচ্ছে গ্রিস। এ জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বিপুল অঙ্কের সমপরিমাণ, ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে যাচ্ছে দেশটি। গ্রিসের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে গ্রিসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত চুক্তিটির প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তির আওতায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি উন্নত শনাক্তকরণ ও নজরদারি সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও রাডার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে আকাশপথে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে গ্রিস। একই সঙ্গে চালকবিহীন আকাশযানের আক্রমণ মোকাবিলায় আলাদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও আরেকটি চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রিসের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটি ২০৩৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮০০ কোটি ইউরো ব্যয়ে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামে একটি সমন্বিত বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও চালকবিহীন আকাশযানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা নয়, সামগ্রিক সামরিক শক্তি বাড়াতেও গ্রিস বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ও ইতালির কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও দেশটির সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে।

বর্তমানে গ্রিস তার আকাশসীমার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রাশিয়ার এস-৩০০ এবং বিভিন্ন স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের তুলনায় এই হার বেশি।

গ্রিসের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা রয়েছে। ফলে গ্রিস তার আকাশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদারে ধারাবাহিকভাবে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযান প্রতিরোধ, ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি নিয়েও তাদের সহযোগিতা রয়েছে।

এর আগে ইসরায়েল থেকে রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে গ্রিস। নতুন এই বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশটির সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিসের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!