রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ ইসরায়েলে বড় হামলার পরিকল্পনা ইরানের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

আজ ইসরায়েলে বড় হামলার পরিকল্পনা ইরানের

ফাইল ছবি

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে ইসরায়েলের ওপর একযোগে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এতে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় এবার ইরান তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। লক্ষ্য হচ্ছে, কোনো একটি গোষ্ঠী হামলা চালানোর পর অন্যরা আলাদাভাবে তাতে যুক্ত হবে—এমন পরিস্থিতির পরিবর্তে শুরু থেকেই একাধিক গোষ্ঠীকে একই পরিকল্পনার আওতায় সক্রিয় করা।

এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার সময় ইরান ও হিজবুল্লাহকে হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা আগে থেকে জানানো হয়নি—এমন মূল্যায়ন আগে সামনে এসেছিল। ফলে হামাসের আক্রমণের সঙ্গে অন্য ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি সমন্বিত ছিল না। পরবর্তী সময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা শুরু করলেও তা একই সময়ে সংঘটিত পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত আক্রমণে রূপ নেয়নি।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, এবার সেই ঘাটতি দূর করার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, একাধিক গোষ্ঠী একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর আঘাত হানতে পারে। এর ফলে দেশটির উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সীমান্তে একসঙ্গে সামরিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কুদস বাহিনীর কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি এবং ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতাদের সঙ্গে সরাসরি ও অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু নেতাদের মধ্যে বৈঠক নয়, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামরিক যোগাযোগও বাড়ছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ, সমন্বিত প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ঘটনাও নজরে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তৎপরতার কারণে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আগের তুলনায় সমন্বয়ের মাত্রা বেড়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েলি পক্ষ।

এর পাশাপাশি আগের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা ইরান চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব তথ্য এখনো ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি হিসেবে সামনে এসেছে। পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে ইরান বা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে একই ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। ফলে সম্ভাব্য হামলার প্রকৃতি, সময় কিংবা ব্যাপ্তি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে যদি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একই সঙ্গে চাপ বাড়লে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর গতিবিধির দিকে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে। সম্ভাব্য নতুন সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বও এ অবস্থায় আরও বেড়ে যেতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!