রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি’

ছবি: সংগৃহীত

কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গাজা যুদ্ধ চলাকালে কাতারের বিরুদ্ধে ইসরায়েল সামরিক হামলা চালিয়েছে এবং বোমাবর্ষণও করেছে। কাতারকে তিনি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে ওই হামলার বিষয়ে কোনো অনুশোচনার ইঙ্গিত দেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কাতারে হামলার বিষয়টি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময়ে ইসরায়েল কাতারে আঘাত হেনেছে এবং কাতারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গাজা যুদ্ধের সময়ে কাতার ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বৈঠকস্থল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় হামাসের প্রতিনিধিরা গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

দোহায় ওই হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ। হামাসের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা হামলা থেকে বেঁচে যান। তবে হামলায় একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ছেলে, তাঁর এক সহযোগী এবং কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যও প্রাণ হারান।

হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কারণ, কাতার তখন গাজা যুদ্ধের অবসান এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ও দীর্ঘদিন ধরে দোহায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। কাতারের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের ভিত্তিতেই হামাসের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সেখানে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

দোহায় হামলার পর কাতার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হামলার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দোহায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেন। তিনি ঘটনাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরাও পরে হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন।

দোহা হামলার কারণে গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমন একটি সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশের রাজধানীতে হামলার ঘটনা কূটনৈতিক উদ্যোগের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

এরই মধ্যে হামলার প্রায় এক বছর পর নেতানিয়াহুর নিজের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কাতার অবশ্য হামলার পরও গাজা সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার ভূমিকা অব্যাহত রাখার অবস্থান জানিয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে দোহায় হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে এক বছর পরও ওই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, কূটনীতি ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!