প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে তিনি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা হন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধিদলে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রয়েছেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহিরও প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সফর করছেন।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুররাহমান বিন জসিম আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে কাতারের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব বিবেচনায় কাতারের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং তাদের কল্যাণের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। কর্মীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, অধিকার এবং দুই দেশের শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই সফরের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধি একই সফরে অংশ নেওয়ায় অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন বিষয়কে সমন্বিতভাবে আলোচনায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে দুই দিনের সফরটি শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরে কাতারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



