প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং লেবাননের সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ জোরদারের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে অংশ নেওয়া অতিথিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আরাঘচি বলেন, ইরান সব মুসলিম দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ভৌগোলিকভাবে কাছের দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধিও আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার হলে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মিসরের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান কায়রোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। মিসর যদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইরানও সে অনুযায়ী এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে আগ্রহ রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
লেবানন প্রসঙ্গেও ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন আরাঘচি। তিনি জানান, লেবাননের সরকারসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও পক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইরান প্রস্তুত। তবে লেবানন সরকারের কিছু নীতির বিষয়ে তেহরানের আপত্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে লেবাননের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও বাস্তবসম্মত ও যুক্তিনির্ভর অবস্থান প্রত্যাশা করেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
এর পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গেও সম্পর্ক সম্প্রসারণের কথা বলেছেন আরাঘচি। আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও ইরানের আগ্রহ রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কিংবা মুসলিম দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব স্থাপনা যেসব দেশে রয়েছে, সেসব দেশকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও পড়েছে। একই সময়ে কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছে।
লেবাননের ক্ষেত্রেও ইরান সম্প্রতি দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও সংহতি ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরান একদিকে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রস্তুতি ইরানের আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।



