প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাঁর তেহরান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, তেহরানে পৌঁছে কাতারের প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় চলমান উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। কাতারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সংঘাত শুরুর আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরুর পর এটি কাতারের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইরান সফর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর জেরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমসহ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
পরবর্তী সময়ে ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানো হলে তেহরান পাল্টা জবাবে আরব দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের পথ পুনরায় সক্রিয় করার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনা থেকে কোনো বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বের হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



