প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
ইরান ও কাতারের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমানোর উপায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে অঞ্চলে নতুন করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে কাতারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। সংলাপের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে সাময়িকভাবে একটি যৌথ নৌ চলাচল করিডর প্রতিষ্ঠার জন্য ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
দুই দেশের এই বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ইরান ও কাতারের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে নতুন কোনো পথ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।



