প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ইসরায়েলের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানকে নিজেদের শর্তে আনতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। সেই ব্যর্থতার পর এখন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং ইসরায়েলের পক্ষে সামরিক তৎপরতা চালানোর পরও যুক্তরাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ও নিষেধাজ্ঞা—কোনোটিই ইরানের অবস্থান বদলাতে পারেনি।
মার্কিন নীতিকে বিপর্যয়কর আখ্যা দিয়ে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক দাবি করেন, এমন পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে এই নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আরাগচি আরও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। পরিস্থিতির কারণে ইরানের উপকূল থেকে অনেক দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেখানে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, হামলায় দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যেকোনো সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের নতুন করে তীব্রতা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বাড়লে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



