রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভেসে ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভেসে ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিক হারিয়ে দীর্ঘদিন ভেসে থাকা একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উন্নত নৌযান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্ণয় ব্যবস্থা ছাড়াই মানবপাচারকারীদের সহায়তায় ওই নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক এলাকা থেকে ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

নৌকাটি চালানোর জন্য দ্রুতগতির ছোট নৌযানের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হলেও এতে সমুদ্রপথ নির্ণয়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীদের জানানো হয়েছিল, গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু যাত্রার একপর্যায়ে নৌকাটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে নৌযানটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাগরের পানিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে।

এভাবে প্রায় ১০ দিন খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া সমুদ্রে থাকার পর নৌকাটি মিসরের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নৌকাটির যাত্রীদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মোট ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় সাগরে আটকে থাকার সময় প্রচণ্ড গরম, তীব্র রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ সময় সাগরে পড়ে থাকায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরলে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন বলেও জানা গেছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিসরে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে স্থানীয় আইন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রার ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এলো।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!