প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১০:২৭ এএম
দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বন্দি থাকার পর দেশে ফিরেছেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে তাদের বহনকারী একটি বিশেষ উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী, এক শিশু এবং ১৫ জন অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন।
জানা গেছে, উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এসব বাংলাদেশি অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তাদের অনেককে উদ্ধার কিংবা আটক করা হয়। পরে তাদের লিবিয়ার বেনগাজীর গ্যানফুদা আটককেন্দ্রে রাখা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় সর্বশেষ এই ১৭৪ জনকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিবিয়ার বেনগাজীর গ্যানফুদা এবং ত্রিপলীর তাজুরা আটককেন্দ্রে এখনও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার এবং দেশে ফেরানোর কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট বাংলাদেশিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৩৪০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৭৪ জন যুক্ত হওয়ায় চলতি আগস্ট মাসে দেশটি থেকে মোট ৫১৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দালাল ও মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার কারণে অনেক বাংলাদেশিকে আটকের পাশাপাশি নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদিত ও নিরাপদ অভিবাসনপথ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপে যাওয়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেওয়া হলে প্রতারণা, আটক এবং জীবনহানির মতো ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



