রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্কব্যবস্থা কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শ্রমমান ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, দেশটিকে সর্বনিম্ন শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশকে ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হলেও চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান উন্নয়ন, বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশ এই সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের রপ্তানি খাত নতুন করে সম্ভাবনার মুখ দেখলেও সেই সুযোগ ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, শুধু কম শুল্কের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে সফলতা নিশ্চিত করবে না। উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় দেশটির বাণিজ্যনীতির যেকোনো পরিবর্তন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়, শিল্প উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই বর্তমান সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যবসায়ী মহল আরও বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন নতুন দেশে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য যেমন একটি বড় সুযোগ, তেমনি এটি সক্ষমতা প্রমাণেরও সময়। শ্রমমান উন্নয়ন, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!