রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

সংগৃহীত

দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে ১২ বছরের চুক্তির আওতায় মোট ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ছয় কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আরও দুই কার্গো সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকেও ২০২৬ সালে দুই কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই একদিকে স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ দেশের বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিও জোরদার হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!