রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাঁচ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

পাঁচ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিন এলাকায় পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঁচটি নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রাক-মৌসুমি ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীগুলোর পানির স্তর এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদীর জগন্নাথপুর এলাকায় পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ওপর রয়েছে। একইভাবে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদীর জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা অংশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এছাড়া মগরা নদীর নেত্রকোনা ও আটপাড়া অংশেও পানির প্রবাহ স্বাভাবিক সীমার ওপরে রয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদীর সুতাং-রেলওয়ে সেতু এলাকায়ও পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, যদিও বেশ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, তবুও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি পুরোপুরি কেটে যায়নি। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির স্তর ঘণ্টায় খুব সামান্য হারে কমছে, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীরগতি কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হলেও এখনই পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাবে না। কারণ প্রাক-মৌসুমি সময়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাত হলে আবারও পানির উচ্চতা বাড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলের নিচু জমিগুলো ইতোমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ফসলের জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধান ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগামী কয়েকদিনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওর অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে বর্ষা শুরুর আগেই প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টি হলে নদীগুলো দ্রুত ভরে যায় এবং হঠাৎ করে পানির চাপ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অনেকে জানান, তারা এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। কারণ পানির চাপ কমলেও হাওরের চারপাশে জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিতভাবে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী অবস্থার পরিবর্তন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!