প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি ফার্মেসি থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তার কাছ থেকে আরও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের দাবি করা হয়। তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মালেক সুপার মার্কেটের একটি ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম শরিফ উদ্দিন। তার বয়স প্রায় ২০ বছর। তিনি ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ফার্মেসির মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, চোখের সমস্যার কথা বলে ওই যুবক দোকানে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন।
আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে আরও তিনটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে ওই যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে আটকের পর ঘটনাটি পুলিশের কাছে না নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিফকে ২০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি কয়েক রাকাত নামাজ আদায় করার পর স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শরিফের দাবি, মোবাইল ফোন দেখলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং ফোন নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে তার। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর প্রকৃত মালিক কারা, সেগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে স্থানীয়ভাবে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরাধের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই নিয়ম।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই যুবককে আটক করার জন্য ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মালিকানা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।



