রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জেমি পেলেন ৭৪ লাখ টাকার স্কলারশিপ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জেমি পেলেন ৭৪ লাখ টাকার স্কলারশিপ

সংগৃহীত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আর্থিক সংকটের কারণে একসময় যার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, সেই জেমি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির মোট মূল্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিঠির মাধ্যমে জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন তিনি।

জেমি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আফজল আলী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত আয়ের সংসারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন পরিবার ও শিক্ষকেরা।

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জেমি। এরপর উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল কার্যক্রমে অংশ নেন। গত ২০ জুলাই শুরু হওয়া ওই কার্যক্রমে বিজ্ঞানভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

শুরুতে বিষয়টি সহজ না হলেও আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কার্যক্রমটি সফলভাবে শেষ করেন জেমি। এরপর তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

বৃত্তির খবর পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জেমি বলেন, এমন বড় একটি বৃত্তি পাওয়ার খবর প্রথমে তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিটি বারবার পড়ে ধীরে ধীরে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরাও যেন এমন সুযোগ পায়, সেই প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

জেমির বাবা আফজল আলী মেয়ের সাফল্যে আনন্দিত। মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই এই বৃত্তি পাওয়ায় পরিবারের আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি। মেয়ের অর্জনে গর্বিত এই বাবা এখন তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন।

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেমির এই অর্জন প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তাঁর মতে, প্রতিভার সঙ্গে আন্তরিক চেষ্টা ও দৃঢ় মনোবল থাকলে আর্থিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

জেমির গল্প তাই শুধু একটি বৃত্তি পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও স্বপ্ন ধরে রেখে এগিয়ে চলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!