প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’ নামের দুই বিশালাকৃতির গরু ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৫ মণ ওজনের এই দুই গরু দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন শুধু কৌতূহল থেকে, আবার কেউ কোরবানির জন্য পছন্দের গরু বাছাই করতে আসছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মে বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে গরু দুটি। খামারজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশাল দেহের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গরু দুটি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশপাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন একনজর দেখতে।
খামার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে যত্ন ও পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে নিয়মিত সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা, খড়সহ বিভিন্ন ফলমূল খাওয়ানো হয়েছে।
খামারের কর্মীরা জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানো হয়।
কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে গরু দুটিকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। গলায় রঙিন ফিতা, মাথায় অলংকার ও শরীরে নকশা করা কাপড় পরিয়ে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
তবে বিশাল আকৃতির কারণে গরু দুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারের শ্রমিকদের। দর্শনার্থীদের চাপের সময় বাড়তি সতর্কতাও নিতে হচ্ছে।
খামারের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে যত্ন নিয়ে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। ‘কালা বাবু’র চারটি দাঁত উঠেছে এবং ‘ধলা বাবু’র দুটি দাঁত রয়েছে। প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন, আবার অনেকে দাম জানতে চাইছেন। কোরবানির জন্য স্বাস্থ্যকর ও ভালো গরু সরবরাহ করাই তাদের লক্ষ্য।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চলছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।



