রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর

ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ভবনে তফসিল চূড়ান্ত করার পর কমিশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার ফলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। এরপর থেকেই আসনটিতে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে উপনির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপ ও সময়সূচি তুলে ধরেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর। জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় পাবেন প্রার্থীরা।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরদিন ৮ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাচনি প্রচারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে এবং ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উপনির্বাচন ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও এরই মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একটি আসনে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

পরবর্তীতে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য পদে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার নির্বাচনি আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই উপনির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, আসন শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে একটি দল তাদের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে অন্যান্য দলগুলোও নিজেদের প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এখন প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মনোনয়নপত্র জমা। এরপর যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রমও গতি পাবে।

সবকিছু নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগোলে ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটাররা তাদের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। ফলে তফসিল ঘোষণার পর এখন পুরো নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!