প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সংঘাত, হানাহানি ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক বিরোধ ও সংঘাতের মাধ্যমে কোনো দেশের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে সবাইকে মতপার্থক্য দূরে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, অনেক মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে দেশের সব নাগরিককে সচেতন থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন সংঘাত বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে জেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতির মতে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য এ অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটিকে শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে জ্ঞান, শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ আরও বাড়বে।
দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর নিজ জেলায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতির এ সফরে একদিকে যেমন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তি, সহনশীলতা ও সমঝোতার বার্তাও উঠে এসেছে। দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



