রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা প্রশাসনিকভাবে যতই প্রভাবশালী হোক, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতি দমনে প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কোনোভাবেই বিবেচনায় না নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সামনে থাকা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জবাবদিহির ঘাটতি এবং সুশাসনের অভাবের কারণে দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দুর্নীতি দমনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুতর দুর্নীতির ঘটনাগুলো দ্রুত অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্নীতির কারণে শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি হয় না, এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর। দুর্নীতি বাড়লে সরকারি সেবার মান কমে, মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা দুর্বল হয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এসব মামলা আইন অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

বিশেষ করে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, দুর্নীতির ঘটনায় যথাসময়ে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি। এ জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। সমাজে দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। কমিশনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি কমিশনকে তার আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।

প্রতিনিধিদলে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিভাগের সংশ্লিষ্ট কমিশনার এবং সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন কমিশনের চলমান অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!