প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়নকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলটি অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবে।
অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুম আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।
পাশাপাশি পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের পছন্দ অনুযায়ী কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগ মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নথিপত্র, পদায়ন ও পদোন্নতির তথ্য এবং অভিযোগে উল্লেখ করা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।
তবে অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যায় না। অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে যাচাই করা হবে। অনুসন্ধান দল প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাবেক উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখন আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।



