প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়ার মাধ্যমে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ ঘটনায় একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্ম সচিব ও একজন উপসচিবসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, উপজেলা পর্যায়ের ১৮৮ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব অর্থ নেওয়ার প্রক্রিয়া, কোন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এ বিষয়ে তার প্রকাশিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কথিত দুর্নীতির প্রমাণ সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ তার বার্তায় দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এ ঘটনায় প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কথাও জানান সাবেক এই উপদেষ্টা।
এদিকে একই দিনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের খবরও সামনে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে আরও কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠনের কথা জানা গেছে। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
একই দিনে নিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের খবর এবং অন্য একটি ঘটনায় বড় অঙ্কের অর্থ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার নতুন অভিযোগ—দুটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি রাতে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন। তার পরবর্তী বক্তব্যে কথিত অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং তিনি কোন ধরনের প্রমাণের কথা বলছেন—এসব বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় আসিফ মাহমুদের বক্তব্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান এবং পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্যের ওপরই এখন নজর থাকবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



