রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নেপথ্যে আসিফ মাহমুদ

সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১৬ হাজার কোটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্পে  ব্যয় বেড়ে ১৬ হাজার কোটি

সংগৃহীত

রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় বৃদ্ধিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় দুই দফা সংশোধনের পর ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। অর্থাৎ শুরুতে যে অর্থের হিসাব করা হয়েছিল, তার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের তৃতীয় ধাপের কাজ শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জুনে। প্রাথমিকভাবে এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা করা হয়। সর্বশেষ দ্বিতীয় সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮ হাজার ৪৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়। এতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে। কারণ দ্বিতীয় দফায় ব্যয় বাড়ানোর সময় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই কম। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ১০ শতাংশের নিচে ছিল। ফলে কাজের বড় অংশ শেষ হওয়ার আগেই কেন ব্যয় এতটা বাড়ানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। একই ধরনের পানি শোধন প্রকল্প গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের তুলনায় কম। গন্ধর্বপুর প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে পানি শোধনের সক্ষমতা বেশি হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় এত বেশি হওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সায়েদাবাদ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য রাজধানীর পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রকল্পের মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে তা শোধন করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নগরবাসীর ভবিষ্যৎ পানি চাহিদা পূরণে প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এর ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা এবং সংশোধনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকল্পের কাজ যেখানে ধীরগতিতে এগিয়েছে, সেখানে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কেন হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যয় বৃদ্ধির সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অনুসন্ধানে গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানা গেছে।

এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় কী কারণে ১৬ হাজার ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকল, প্রকল্পের ধীরগতির জন্য কারা দায়ী এবং বিপুল এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পেছনে যথাযথ কারিগরি ও আর্থিক যুক্তি ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে প্রকল্পের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনুমোদন, সংশোধন, ব্যয় এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!