রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে চা-বাগান ও প্রাচীন আমগাছ দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে চা-বাগান ও প্রাচীন আমগাছ দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সমতলের চা-বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একই সফরে তিনি প্রায় ২২৫ বছরের পুরোনো বলে পরিচিত এশিয়ার বৃহত্তম সূর্যপুরী আমগাছও পরিদর্শন করেন। সমতলের চা-বাগান, শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ এবং উত্তরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের নিটালডোবা গ্রামে অবস্থিত গ্রিন ফিল্ড চা-বাগান পরিদর্শনে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা ছিলেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সীমান্তবর্তী নাগরনদীর তীরঘেঁষা চা-বাগানে পৌঁছান তিনি।

চা-বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। একপর্যায়ে চা শ্রমিকদের সঙ্গে নিজেও চা পাতা তোলায় অংশ নেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং বাগানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত জানান, সমতল এলাকায় চা-বাগান দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য নতুন। এর আগে তিনি মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের চা-বাগান দেখেছেন। সমতলের বাগানে শ্রমিকদের চা পাতা সংগ্রহের প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখা তাঁর জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

চা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ ও চায়ের ধরন সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি বাগানে না এলে চায়ের বিভিন্ন ধরন ও সেগুলোর পার্থক্য সম্পর্কে এতটা ধারণা পাওয়া কঠিন।

এরপর তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আমগাছ দেখতে যান। স্থানীয়ভাবে গাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর বলে জানা যায়। গাছটির বিশাল আকৃতি ও দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে জানার পাশাপাশি এর প্রতি প্রশংসা প্রকাশ করেন তিনি।

সফরের আরেক পর্যায়ে বালিয়াডাঙ্গীর একমাত্র ভারী শিল্প চা কারখানা গ্রিন ফিল্ড চা-বাগান ও কারখানার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে বাগানের উৎপাদন, চা প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

চা-বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত উন্নতমানের চায়ের আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সবুজ চায়ের উৎপাদন ও বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতের এই সফর ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের চা উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে বালিয়াডাঙ্গীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সফরস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়।

উত্তরাঞ্চলে চা চাষের বিস্তার সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পাহাড়ি এলাকার বাইরে সমতল ভূমিতেও চা উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় দেশের চা শিল্পের পরিধি বাড়ছে। এমন একটি বাগানে বিদেশি কূটনীতিকের সরাসরি উপস্থিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনাকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!