রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কুকুরের কামড়ে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো কুকুরের কামড়জনিত জটিলতা থেকে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে গেছে। গত ৮ মে সর্বশেষ মৃত্যু হয় কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের এক রাজমিস্ত্রির। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাকে একটি কুকুর কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কামড়ের পর তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক না থাকায় তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিষেধক সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সময়মতো কার্যকর চিকিৎসা না পাওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

এর আগে একই এলাকার আরও দুইজন ব্যক্তি কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ ছিলেন। একই ইউনিয়নের আরেকজন ব্যক্তিরও মৃত্যু ঘটে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত মাসেও একই এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে পাঠানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও শিক্ষকেরা বলছেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে ফিরে আসছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই কামড়ের পর অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পুরো এলাকায় মানুষের চলাচলে সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন। আতঙ্কের কারণে শিশুদেরও বাইরে খেলাধুলা সীমিত হয়ে গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!