প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা এলাকায় একটি ফ্লাইওভারের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের নাম কাউসার আহমেদ (২৭) বলে জানা গেছে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১১ মে) রাতে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্লাইওভারের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে কোনো স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ কারণে প্রথমে এটিকে অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কাউসারকে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নিহত কাউসার চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলেও জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহত যুবক মানসিক চাপে ভুগছিলেন এবং মাদকাসক্তির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। কিছু ব্যক্তি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পরিবারের পক্ষ থেকে তার নাম-পরিচয়ের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয় উল্লেখ নেই।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ফ্লাইওভারে তিনি কীভাবে পৌঁছালেন, সেখানে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।



