প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বিএনপির কড়া সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি, বরং চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় জনগণের মধ্যে ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের একজন নেতার দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কেন এখনো চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি এবং সর্বত্র দুর্নীতির অভিযোগ কেন শোনা যাচ্ছে। তার দাবি, কোনো চাঁদাবাজকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়নি, ফলে জনগণ মনে করতে পারে পুরো ব্যবস্থায়ই অনিয়ম রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয়করণের সমালোচনা করে বলেন, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হবে।
পানি ইস্যুতে তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ চালুর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের ওপর পড়ছে। পদ্মা ব্যারাজের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের নাগরিকদের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের বৈষম্য বা উত্তেজনা কাম্য নয়।
অর্থনীতির অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়ম বেড়েছে এবং বেকারত্বও বাড়ছে। একইসঙ্গে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও খাল খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এতে ১১ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



