প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
যশোরে একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বিরোধ মেটাতে আলোচনা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মঙ্গলবার সকালে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা সংসদ সদস্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, এক শিশু শিক্ষার্থী ও এক নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তাদের বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে তাকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কিছু ব্যক্তি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে ভুল বোঝাবুঝির জন্ম নেয় এবং পরবর্তীতে বাসভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



