প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
যশোর সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম আনোয়ারা বেগম। তার বয়স ৫৮ বছর। তিনি দুর্গাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার ছেলে মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনের বয়স ৪০ বছর। তিনি স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, মামুনুর রশিদের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অশান্তি চলছিল। তিনি এর আগে দুইবার বিয়ে করেছিলেন। দুই স্ত্রীর সঙ্গেই দাম্পত্য বিরোধের পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এসব বিচ্ছেদের জন্য মামুন তার মাকে দায়ী করতেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য। বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য ছিল। এমনকি অতীতে মাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুনুর রশিদ মানসিকভাবে সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি কয়েক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনুর রশিদ দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে ফেরার পর মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
তর্ক-বিতর্ক একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মামুন হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। এরপর রান্নার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বঁটি হাতে নিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান তিনি। মায়ের গলা লক্ষ্য করে একাধিকবার কোপ দেওয়া হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধারের সুযোগও মেলেনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে আটক করার চেষ্টা করলেও তিনি ধরা পড়েননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের সম্পর্ক কতটা গভীর, তা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের আগের পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চিকিৎসার ইতিহাস এবং ঘটনার সময় তার আচরণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। একজন মায়ের সঙ্গে তার সন্তানের এমন পরিণতিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পারিবারিক বিরোধ যতই জটিল হোক, এ ধরনের সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।



