প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
যশোরের শার্শা উপজেলায় একই ঘর থেকে দুই শিশুসন্তান ও তাদের বাবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, দুই শিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর তাদের বাবা কামাল হোসেন বিষাক্ত গ্যাসের বড়ি সেবন করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
নিহত দুই শিশু হলো কামাল হোসেনের ছেলে সাবির, যার বয়স প্রায় পাঁচ বছর, এবং জাবির, যার বয়স আড়াই বছর। তাদের বাবা কামাল হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে একই স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামাল হোসেনের পারিবারিক জীবন নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। তার একাধিক বিয়ে হয়েছিল এবং আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তার মোট সাত সন্তান রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। সর্বশেষ স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পারিবারিক নির্যাতনের কারণে কামাল হোসেনের সর্বশেষ স্ত্রী প্রায় এক সপ্তাহ আগে দুই শিশুকে বাড়িতে রেখে নড়াইলে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই বাড়িতে কামাল হোসেন ও তার দুই ছোট সন্তান ছিল বলে জানা গেছে। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশু দুজনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর তাদের বাবা বিষাক্ত গ্যাসের বড়ি সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, শিশু দুজনের মৃত্যুর পেছনে কী কারণ ছিল এবং তাদের বাবার মৃত্যুর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী—এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
শার্শা থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পুলিশ একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে। পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য কলহ কিংবা অন্য কোনো কারণ এ ঘটনার পেছনে ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল হক জানান, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।



