প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ পাওয়ার পর চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ক্ষত অস্ত্রোপচারের সময় হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং অস্ত্রোপচারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরাকে প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর স্বজনদের জানানো হয়, ছেলে সন্তান হয়েছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
স্বজনদের দাবি, সন্তান জন্মের পর বেশ কিছু সময় তারা শিশুটিকে দেখতে পারেননি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে দেখার সুযোগ পেয়ে তারা মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত দাগ দেখতে পান। পরে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নড়াচড়া করতে দেখে তাঁরা দ্রুত অন্যত্র চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।
নবজাতকের খালা রহিমা খাতুনের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়ায় তাসমিরাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও সন্তান দুজনই ভালো আছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। তাই অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির এমন অবস্থা দেখে তাঁরা হতবাক হয়ে যান।
নবজাতকের বাবা সাগর হাসানও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় শিশুটিকে স্বজনদের কাছ থেকে দূরে রাখা হয় এবং পরে গুরুতর ক্ষত নিয়ে শিশুটিকে দেখানো হয়। এটি ছিল তাঁদের প্রথম সন্তান।
তবে হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আহসান কবির বাপ্পী স্বজনদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাঁর ভাষ্য, শিশুটির শরীরে থাকা ক্ষতগুলো অস্ত্রোপচারের সময় সৃষ্ট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অস্ত্রোপচারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। চিকিৎসক, নার্স বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি নিয়ে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং শরীরে থাকা ক্ষত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।



