প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থিত কলমিলতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভোরবেলা হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের ব্যবসায়ী, আশপাশের বাসিন্দা এবং পথচারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বাজারের নিচতলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়। ভোরের নীরবতা ভেঙে স্থানীয়দের চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ এবং দোকান রক্ষার ব্যস্ততা শুরু হয়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত মোট ১০টি ইউনিট একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোরের দিকে বাজারের নিচতলায় আগুনের উৎপত্তি হয়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি, তবে শর্টসার্কিট, গ্যাস লিকেজ অথবা দাহ্যবস্তুর অসতর্ক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশপাশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল আবার সচল হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে অনেক দোকান মালিক তাদের পণ্য ও মালামাল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অনেকে ভোরে ছুটে এসে দোকানের অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন।
বাজারের আশপাশে অবস্থানকারী কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আগুনের শিখা খুব দ্রুত উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর দ্রুত উপস্থিতি বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সহায়তা করেছে। তারা মনে করছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আগুন আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারত।
অগ্নিনির্বাপণ কাজে অংশ নেওয়া সদস্যদের বেশ কয়েক ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। ঘন ধোঁয়া, সংকীর্ণ জায়গা এবং দাহ্য উপকরণের কারণে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বাজারের কতগুলো দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো বাজারগুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি নির্গমন পথের বিষয়গুলো আরও কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরিদর্শন ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র সামনে আসবে বলে জানা গেছে।



