রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চীনে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২0

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

চীনে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২0

ছবি: সংগৃহীত

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী কিংদাওয়ে মেরামতের জন্য নোঙর করে রাখা একটি বিদেশি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। জাহাজটিতে আগুন লাগার সময় মোট ৪২ জন অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার পর ১২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কিংদাওয়ের একটি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ নামের পণ্যবাহী জাহাজটি তখন মেরামতের কাজে সেখানে অবস্থান করছিল। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯০ মিটার বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সকাল ১১টার কিছু পরে জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন জাহাজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুন লাগার সময় জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আহত পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজের ভেতরে থাকা অন্যদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অভিযান চালাতে হয়েছে।

ঘটনার পর জাহাজের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জাহাজের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালান। অগ্নিকাণ্ডের কারণে জাহাজের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার জন্য কেউ দায়ী হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাহাজটি মেরামতের কাজে থাকা অবস্থায় কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাহাজের ভেতরে কোনো দাহ্য পদার্থ, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা মেরামতের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে আগুন লেগেছিল কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

কিংদাও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বন্দরটির বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলে সেখানে একটি বিদেশি জাহাজে এত বড় দুর্ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেরামতের কার্যক্রম এবং দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাহাজের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কিংদাওয়ের এই দুর্ঘটনা চীনের সামুদ্রিক ও শিল্প নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজ মেরামতের সময় অগ্নিনিরাপত্তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তদন্তে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।

এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ২০ বলা হলেও পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে তা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!