প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হয়েছিল কথাবার্তা। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় এক বছর ধরে চলা সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন ২৯ বছর বয়সী এক যুবক। পরে রংপুরের পীরগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে আয়ান ইসলাম রাখেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনা যুবকের আগের নাম ছিল ঝাওহুইয়ান। তার বাড়ি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের পিংচাং কাউন্টির ইয়াঙ্কু এলাকার তুবা গ্রামে। অন্যদিকে নববধূ আবিদা সুলতানার বাড়ি পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে।
প্রায় এক বছর আগে একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত কথাবার্তার মধ্য দিয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন ওই যুবক। ঢাকায় পৌঁছে সড়কপথে রংপুরে যান এবং পরে পীরগঞ্জে গিয়ে আবিদার সঙ্গে দেখা করেন।
পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিয়ের আগে ১০ সেপ্টেম্বর রংপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ঝাওহুইয়ান। এরপর তার নাম রাখা হয় আয়ান ইসলাম। ওই রাতেই পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
আবিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, আয়ানের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। শানেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলামও তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে চীন থেকে একজন যুবক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পীরগঞ্জে এসে বিয়ে করায় এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নবদম্পতিকে দেখতে আশপাশের লোকজনও তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়ের বন্ধনে রূপ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।



