প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও বিমানবাহিনীকে আধুনিক করার লক্ষ্যে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার কাজ চলছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানসহ প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, রসদ, অবকাঠামো, বিমা ও করসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় মিলিয়ে পুরো প্রকল্পে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। শুধু একটি যুদ্ধবিমানের মূল মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রতি বিমানের প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার ভিত্তিতে চুক্তি করার উদ্যোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ২০টি বিমানের মধ্যে ১০টি সরাসরি বিমানবাহিনীর কাঠামোয় যুক্ত হবে এবং অপর ১০টি অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হবে।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, পরিচালনাসামগ্রী, রসদ এবং পরিবহন বাবদ প্রায় ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। এ ছাড়া কর, বিমা ও অবকাঠামোগত কাজের জন্য আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।
জে-১০সিই হলো চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এটি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশ ও স্থলভিত্তিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি। বিমানটির তুলনামূলক কম ব্যয় এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষমতা বাংলাদেশের এই মডেল বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এত বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।



