প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলকে। ম্যাচে দুইবার লিড নিয়েও রক্ষণভাগের ভুল ও শেষ মুহূর্তের সুযোগ নষ্টের কারণে স্বাগতিক চীনের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের যুবারা। ফলে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে প্রত্যাশিত জয় দিয়ে অভিযান শুরুর সুযোগ হাতছাড়া হলো তাদের।
চীনের মোকি প্রশিক্ষণ মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল নয়, বরং আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে একাধিকবার গোলের সুযোগও তৈরি করে তারা। ম্যাচের প্রথম ভাগেই তার সুফল পায় দলটি। খেলার ১২তম মিনিটে শিমুল ইসলামের ফিল্ড গোল বাংলাদেশকে এগিয়ে দেয়।
গোল হজমের পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে চীন। ১৯তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। এতে ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে সমতা ফেরার পরও বাংলাদেশের খেলায় ছন্দপতন হয়নি। বরং দ্বিতীয় পর্বে আরও সংগঠিত আক্রমণ গড়ে তুলে আবারও এগিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
২৬তম মিনিটে মেহেদী হাসানের ফিল্ড গোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো লিড নেয়। গোলটির পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২-১ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দল।
তবে বিরতির পর বাংলাদেশের সেই নিয়ন্ত্রণ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় পর্বে চীন আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের রক্ষণভাগে কয়েকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেনাল্টি কর্নার থেকে আবারও গোল করে স্বাগতিকরা। ফলে ম্যাচের স্কোর ২-২ সমতায় চলে আসে।
সমতা ফেরার পর দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ পর্বে বাংলাদেশও বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায়। গোলের সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি দলের আক্রমণভাগ। একাধিক সম্ভাবনাময় আক্রমণ প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়ে থেমে যায়। বিপরীতে চীন সুযোগ পেয়ে সেটি কাজে লাগাতে সফল হয়।
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সুন জিংরান গোল করে চীনকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে দেন। ওই গোলের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। শেষ দিকে আক্রমণে আরও খেলোয়াড় বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের যুবাদের।
ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে কারণ পুরো ম্যাচে একাধিকবার এগিয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছিল দলটি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর জয় ধরে রাখতে না পারা দলের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। রক্ষণভাগের সামান্য ভুল এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে পুরো দলকে।
এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে খেলছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান। প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষগুলোর বিপক্ষে পয়েন্ট সংগ্রহের পাশাপাশি ভালো অবস্থান নিশ্চিত করাও দলের লক্ষ্য।
চীনের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে আগের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠে জয় পাওয়াই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের যুব হকি দলের জন্য এবারের প্রতিযোগিতা শুধু ভালো ফল করার সুযোগ নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর চীনে যাওয়া দলটি শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের হকিতে জুনিয়র পর্যায়ের সাফল্য খুব বেশি নয়। জুনিয়র এশিয়া কাপে ১৯৯৬ সালে সেমিফাইনালে ওঠাই এখন পর্যন্ত দলের সেরা অর্জন। এবার সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে যুব দল। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে শুরু হলেও সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ এখনো বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।



