প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
চট্টগ্রাম নগরীতে গ্রাফিতি মুছে ফেলা এবং পুনরায় অঙ্কনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত নতুন মোড় নেয় মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপে। টানা দুই দিনের রাজনৈতিক উত্তাপ, ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পর নগরবাসীর দৃষ্টি ছিল পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক হবে, সেদিকে। অবশেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হাতে তুলেন রংতুলি। নিজ হাতে গ্রাফিতি এঁকে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
সোমবার রাতের দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় উপস্থিত হয়ে মেয়র দেয়ালে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার কার্যক্রম শুরু করেন। তার এই পদক্ষেপের পর পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে অংশ নিতে শুরু করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি যেন রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে, যেখানে উত্তেজনার জায়গা দখল করে সাংস্কৃতিক আবহ।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে আঁকা কিছু গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, নগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আন্দোলনভিত্তিক কিছু চিত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ধীরে ধীরে প্রকাশ্য উত্তেজনায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে নগর প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় সভা, মিছিল ও সমাবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দুপুরের দিকে টাইগারপাস এলাকায় আবার গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের শারীরিক ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নতুনভাবে গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্যোগ নিলে উত্তেজনার মাত্রা কমতে শুরু করে। তার উপস্থিতিতে চারুকলার শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি একত্রিত হয়ে দেয়ালে নতুন চিত্র অঙ্কনে অংশ নেন।
এদিকে শহরের অন্য প্রান্তেও কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা আলাদাভাবে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি পালন করেন। তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বরং সমন্বিত উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাফিতি এখন শুধু দেয়ালচিত্র নয়; এটি অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তারও প্রতীক হয়ে ওঠে। ফলে এমন শিল্পকর্ম মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করার মতো বিষয়গুলো জনমনে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাও তারই একটি উদাহরণ।
বর্তমানে নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা এখনো বিভিন্ন মহলে অব্যাহত রয়েছে। তবে মেয়রের সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতি শান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।



