প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ভোরের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো হাসপাতাল। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের তীব্রতা। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসাকর্মীরা। জীবন বাঁচাতে যে যেভাবে পেরেছেন, সেভাবেই ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন অনেকে। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়।
বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের পাশে থাকা একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে দ্রুত তা আশপাশের কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। পর্যায়ক্রমে মোট এগারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এর আগেই হাসপাতালের ভেতরে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের এক নম্বর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা পনেরো জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রোগীদের নিরাপদ স্থানে নিতে চিকিৎসক ও নার্সরা প্রাণপণ চেষ্টা চালান।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ঘটনায় দুইজন রোগীর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগেই ঘটে। অন্যজনকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসাকর্মী ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ, সিনিয়র নার্স এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাতের পরপরই স্টোররুম থেকে কালো ধোঁয়া পুরো তৃতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে অপারেশন থিয়েটার ও পরবর্তী চিকিৎসা ইউনিটে কিছু সময়ের জন্য দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগীদের দ্রুত পেছনের পথ দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ভবনের কয়েকটি অংশে প্রবেশের সময় তালাবদ্ধ দরজা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাধ্য হয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। কিছু রোগীকে জানালার গ্রিল কেটে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরনো যন্ত্রপাতি বিস্ফোরিত হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টোররুমে পুরনো কাপড়, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কিছু দাহ্য পদার্থ রাখা ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধোঁয়ার কারণে অনেক রোগী ও স্বজন শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কে ভোগেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে আগুনের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।



