প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ, ঠিক তখনই ঢাকার নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজক ভেঙে বিপরীত দিকের আরেকটি বাসে সজোরে আঘাত হানলে অন্তত চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বুধবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ততম এই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দ্রুতগতিতে আসা বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিভাজকের ওপর উঠে যায়। পরে বিপরীত লেনে চলা আরেকটি যাত্রীবাহী বাসে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর কয়েকজন যাত্রী। ঘটনাস্থলেই এক নারী প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহতদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদে বাড়ি ফেরা বহু যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং সড়ক স্বাভাবিক করতে কাজ করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতাকে দায়ী করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রার শুরু থেকেই বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালকের আচরণও ছিল অস্বাভাবিক। ঘটনার পর চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের খুঁজতে অভিযান চলছে।
ঈদযাত্রার ব্যস্ত সময়ে এমন দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যাত্রীদের দাবি, উৎসবের সময় পরিবহন খাতে কঠোর নজরদারি ও বেপরোয়া যানচালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



