প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ১০:১১ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রোববার। দীর্ঘ অবকাশের পর আগামীকাল সোমবার থেকে আবারও সচল হতে যাচ্ছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার। দীর্ঘ বিরতির পর স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ।
ঈদ উপলক্ষে চলতি বছর ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ধারাবাহিক ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক অবকাশ যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবসর কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এই সময় অনেকে গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। তবে ছুটি শেষ হওয়ায় এখন আবারও কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সোমবার থেকে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বশাসিত ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারেও স্বাভাবিক লেনদেন চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা থাকলেও আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এছাড়া দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির কারণে জমে থাকা আর্থিক কার্যক্রম নিষ্পত্তিতে প্রথম সপ্তাহেই ব্যস্ততা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে মানুষ রাজধানীতে ফিরছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরতি চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যদিও প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে তুলনামূলক কম কর্মব্যস্ততা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাধারণত প্রথম দিনে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনুষ্ঠানিক কাজে সময় ব্যয় হওয়ায় পূর্ণমাত্রার কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রথম দিনে সীমিতভাবে কাজ পরিচালনা করে থাকে।
ব্যাংক খাতেও প্রথম কর্মদিবসে লেনদেনের চাপ তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে ছুটির সময় স্থগিত থাকা বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ততা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। ঈদের আমেজ কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে নগরজীবন।



