প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষ হওয়ার প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় তুলনামূলক কম চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকটাই সীমিত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে ঘরমুখো মানুষের পরিবর্তে ফিরতি যাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ, আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নৌঘাটে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলেও কোথাও অতিরিক্ত ভিড় কিংবা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি। যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক এবং অধিকাংশ পরিবহন নির্ধারিত সময় মেনেই চলাচল করেছে।
বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নদীপথে রাজধানীতে ফেরা যাত্রীদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। নদীপথে যাত্রা করা অনেকেই জানিয়েছেন, এবার যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন। নৌযানে যাত্রী থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় না থাকায় যাত্রাপথে তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। অধিকাংশ নৌযান সময়মতো রাজধানীতে পৌঁছেছে বলেও জানা গেছে।
একইভাবে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার যানবাহনেও যাত্রীচাপ ছিল সহনীয় পর্যায়ে। রাজধানীতে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পেরেছেন। অতিরিক্ত যাত্রী না থাকায় ভাড়া নিয়ে অভিযোগও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকেই একই দিনে না ফিরে ধাপে ধাপে রাজধানীতে ফিরছেন। কেউ কেউ ছুটি আরও কয়েকদিন বাড়িয়ে গ্রামে অবস্থান করছেন। ফলে ফিরতি যাত্রার চাপ একদিনে না পড়ে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে গেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমেছে।
অন্যদিকে, ঈদের সময় কর্মব্যস্ততার কারণে বাড়ি যেতে না পারা অনেক মানুষ এখন পরিবারের সঙ্গে গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্রে একদিকে যেমন ঢাকামুখী যাত্রী দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামমুখী মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে। তবে দুই ধরনের যাত্রীর চাপ থাকলেও কোথাও বড় ধরনের জটিলতা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফাঁকা সড়ক, যানজটের অনুপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের রাজধানীতে ফেরা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছুটি শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করছেন। আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, আদালত, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে কর্মব্যস্ত পরিবেশ আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।



